ক্ষমতা নয়, মানুষের বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।

আসসালামু আলাইকুম,

সম্প্রতি আমার মনোনয়ন এবং বিশেষ করে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ (Renunciation) সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তি ও নানা ধরনের আলোচনা লক্ষ্য করছি। স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে আমি মনে করি এই বিষয়টি শান্তভাবে, স্পষ্টভাবে এবং আইনের আলোকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।কি কি নথি জমা দেওয়া হয়েছে

আমার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে আমি নিম্নলিখিত নথিগুলো দাখিল করেছি

১. যুক্তরাজ্যের হোম অফিসে অনলাইনে জমা দেওয়া নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদনপত্রের কপি

২. একটি ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন রেফারেন্স নম্বর

৩. পেমেন্ট কনফার্মেশন ও পেমেন্ট রেফারেন্স

এই নথিগুলো কোনো অনানুষ্ঠানিক বা প্রাথমিক কাগজ নয়। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের অনলাইন সিস্টেম অনুযায়ী, আবেদন সম্পূর্ণভাবে সাবমিট এবং পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পরেই ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন রেফারেন্স নম্বর তৈরি হয়।

ড্রাফট অবস্থায় থাকা কোনো আবেদনের ক্ষেত্রে এ ধরনের রেফারেন্স নম্বর পাওয়া সম্ভব নয়।

অতএব, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত নথিগুলো আবেদন জমা দেওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ, কেবল ইচ্ছা প্রকাশ নয়। প্রক্রিয়া বোঝা ও প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করার পার্থক্য

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা প্রয়োজন—

প্রক্রিয়াটি না বোঝা, এবং প্রক্রিয়াটি না বুঝেই সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য করা এই দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

যখন কোনো সিদ্ধান্তগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ কোনো বিশেষ বা বিদেশি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া (যেমন নাগরিকত্ব ত্যাগ) সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত না থাকেন, তখন যাচাই করা স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু স্পষ্ট, যাচাইযোগ্য ও বৈধ নথি উপেক্ষা করা আইনসম্মত নয়। এই নীতিটি প্রশাসনিক আইনে সুপ্রতিষ্ঠিত।

ওয়েডনেসবুড়্যি নীতিমালা (যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানদণ্ড)

প্রশাসনিক আইনের একটি স্বীকৃত নীতি হলো Wednesbury principles। এই নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ—

১. প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপেক্ষা করতে পারে না

২. অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিতে পারে না

৩. এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না যা কোনো যুক্তিসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করত না যখন ইউনিক রেফারেন্স নম্বর ও পেমেন্ট কনফার্মেশনের মতো যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো উপেক্ষা করা হয়, তখন সেই সিদ্ধান্তকে যুক্তিসঙ্গত বলা যায় না।

বাংলাদেশে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আদালত নিয়মিতভাবে এই নীতিমালা প্রয়োগ করে থাকেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১: আইনের সুরক্ষা

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সুরক্ষা হলো বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ৩১।

অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে—

আইন অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত আচরণ পাওয়ার। এর অর্থ হলো-

১. সিদ্ধান্ত আইনসম্মত হতে হবে

২. সিদ্ধান্ত ন্যায়সংগত হতে হবে

৩. সিদ্ধান্ত অনুমান বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে হতে হবে

যখন বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও তা অগ্রাহ্য করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই অনুচ্ছেদ ৩১ অনুযায়ী প্রশ্ন উঠে আসে।

বর্তমান অবস্থা-

যথাযথ যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিষয়টি যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। আমি আইনসম্মত যাচাইকে স্বাগত জানাই এবং আমার গোপন করার কিছু নেই। আমি শুধু এটুকুই প্রত্যাশা করি এবং সংবিধানও সেটিই দাবি করে যেন প্রক্রিয়া, যুক্তিসঙ্গততা ও ন্যায়বিচার সর্বাবস্থায় বজায় রাখা হয়।

Scroll to Top